ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সৃষ্ট দীর্ঘ আন্দোলনের অবসান ঘটল। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর তাদের ওপর ‘আস্থা রেখে’ আন্দোলন প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবার নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরপরই এই সিদ্ধান্ত সামনে এল।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়াও আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর বিষয়ে সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা নিশ্চিত করেছেন যে, বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। এছাড়া নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, তাদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কেন্দ্র খুব শিগগিরই নির্ধারণ করবে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শেয়ার করা চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহে তিনি মর্মাহত এবং দেশের ঐক্যের স্বার্থেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সিজেপি তাদের প্রতিক্রিয়ায় লিখেছে, ‘তেলাপোকা জিতেছে, গণতন্ত্র জিতেছে।’ যদিও আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবুও পুলিশি নির্মমতার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানাতে রোববার মোমবাতি মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সিজেপি। উল্লেখ্য, গত রোববার বিহারের অন্তত তিনটি জেলায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ ও পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছিল এবং জনশক্তি জনতা দলের তেজ প্রতাপ যাদবকে পুলিশ আটক করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় জানান, প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আগামী সপ্তাহেই পার্লামেন্টে নতুন বিল আনা হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যে একটি খসড়া বিল অনুমোদন করেছে, যেখানে প্রশ্নফাঁসের দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) ৪৭ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতির ‘তেলাপোকা’ সংক্রান্ত মন্তব্য থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে তিনি জানান। তবে প্রধান বিচারপতি পরে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন যে, তাঁর মন্তব্যটি বেকার তরুণদের জন্য নয় বরং ভুয়া ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে ছিল। অভিজিৎ দিপকে ১৬ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপি গঠনের ঘোষণা দেন এবং জুনের শুরুতে ভারতে ফিরে এসে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ২৮ জুন শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে আন্দোলন আরও গতি পায়। ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের লাঠিপেটা করা ও সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও তারা আন্দোলন চালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়ায় তারা দাবি মানতে বাধ্য হয়।