প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং বাকস্বাধীনতা সুরক্ষা করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকসের (দায়রা) আয়োজনে অনুষ্ঠিত বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস দেশের জনগণ।
মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। বিগত ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, বিএনপি এই রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নৃশংসতার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশ সরকারবিহীন থাকা অবস্থায় বৃহত্তম দল হিসেবে বিএনপির নেতৃত্ব শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে পুনর্মিলন ও সমঝোতার যে পথ তৈরি করেছে, তাকেই বর্তমান সরকার তার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে মৃত্যু এবং ভুয়া মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে বিএনপি, যা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। তিনি আরও বলেন, কেবল একটি দল নয়, বরং গণতন্ত্রকামী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন।
গুমের ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র জানান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও গুমের শিকার হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৭০০-এর বেশি মানুষ গুম হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও স্বজন হারানোর ব্যথায় ব্যথিত, কারণ তার বাবা রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন প্রাণ হারিয়েছেন, মাকে জেলে বন্দি রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল এবং ভাইও নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজেও শারীরিক নির্যাতন ও বাকস্বাধীনতা হরণের শিকার হয়েছিলেন এবং তার বাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যই অতীতে গুম ও শত শত ভুয়া মামলার শিকার হয়েছিলেন বলে তিনি জানান। মাহদী আমিন বলেন, অতীতে ক্ষমতার উৎস ছিল পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন। তবে এখন সরকার একটি ‘রিসেট বোতাম’ চেপে সম্পূর্ণ পরিষ্কার এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, গত পাঁচ মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, হেফাজতে মৃত্যু কিংবা গুমের একটি ঘটনাও ঘটেনি।
সরকার প্রতিশোধের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ন্যায়বিচারের নতুন ধারা প্রতিষ্ঠা করতে চায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিগত শাসনামলে সংঘটিত অপরাধের হুকুমদাতাদের আইনের আওতায় আনা হবে, তবে কোনো নির্দোষ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় তাও নিশ্চিত করা হবে। সবশেষে তিনি জানান, প্রশাসনিক গতি আনতে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ১৮০ দিনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নারী ও যুবসমাজকে ক্ষমতায়িত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের অঙ্গীকার।