বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করতে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল আর মাত্র ১০-১৫ মিনিটের ব্যবধান। কিন্তু শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ২-১ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে থ্রি লায়ন্সদের। বুধবার (১৫ জুলাই) আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের এই হারের পর ইংল্যান্ড শিবিরে এখন কেবলই হতাশা আর আক্ষেপের সুর।
ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। দীর্ঘ সময় সেই লিড ধরে রাখায় ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছিল দলটি। কিন্তু খেলার শেষদিকে এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার দুর্দান্ত গোল এবং যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের জয়সূচক গোল ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনার পক্ষে।
ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন অলিম্পিকস ডটকমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এমন হার মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। তিনি আরও বলেন, সবার আগে আমাদের বুঝতে হবে আসলে কী ঘটেছে। যখন আপনি ফাইনাল থেকে মাত্র ১০-১৫ মিনিট দূরে থাকেন এবং হঠাৎ সবকিছু হাতছাড়া হয়ে যায়, তখন তা মেনে নেওয়া কঠিন। দলের সবাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ড্যান বার্ন মনে করেন, গোল করার পর দল কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিল, যার সুযোগ নিয়েছে আর্জেন্টিনা। তিনি বলেন, গোলের পর আমরা কিছুটা প্যাসিভ হয়ে গিয়েছিলাম। আর্জেন্টিনার গোল পাওয়া তখন সময়ের ব্যাপার ছিল। আমরা প্রতিপক্ষকে অনেক ক্রস ও সুযোগ দিয়েছি, যা আগের ম্যাচগুলোতে হতে দিইনি।
হ্যারি কেইনের মতে, বলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। তিনি জানান, প্রথম ৬০ মিনিট তারা দারুণ খেলেছেন এবং এগিয়ে থাকার যোগ্য ছিলেন। কিন্তু এরপর বল ধরে রাখতে না পারায় এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হওয়ায় আর্জেন্টিনা ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ও তাদের খেলার গতি বাড়িয়ে দেয়।
এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা আগামী রোববার নিউজার্সিতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হবে।