ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় পরাজয়ের পর নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম। ম্যাচের শেষ দিকে রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ভ্যালেন্তিন বারকোর মাথায় চড় মেরে বসেন। এনডিটিভি তাদের প্রতিবেদনে এই ঘটনার ভিডিওসহ বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। বুধবারের ম্যাচে নিজের দুর্দান্ত ফর্মের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি বেলিংহ্যাম। লিওনেল মেসির জোড়া অ্যাসিস্টে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ সাত মিনিটের ব্যবধানে গোল করলে ২-১ ব্যবধানে জয়ী হয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর বেলিংহ্যাম মাঠে একা দাঁড়িয়ে হতাশায় ডুবে ছিলেন। এ সময় আর্জেন্টিনার এক খেলোয়াড় তাকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসেন। পরবর্তীতে ভ্যালেন্তিন বারকো সতীর্থদের সঙ্গে বিজয় উদযাপনে যোগ দিলে বেলিংহ্যামের উদ্দেশে কিছু মন্তব্য করেন বলে ভিডিওতে ধারণা পাওয়া যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বেলিংহ্যাম বারকোর মাথায় চড় মারেন এবং জবাবে বারকো তাকে ধাক্কা দেন। বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে দুই দলের অন্য খেলোয়াড়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের আলাদা করেন।
ম্যাচ শেষে বেলিংহ্যাম সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। বিশ্বকাপে ছয় গোল করা এই মিডফিল্ডার শেষ মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে যাওয়াকে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন। এদিকে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল ম্যাচের শেষ দিকে রক্ষণাত্মক কৌশলের জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকার সময় তিনি অতিরিক্ত ডিফেন্ডার নামিয়ে পাঁচজনের রক্ষণভাগে ফিরে যান, যা আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ করে দেয় বলে অনেকের ধারণা।
তবে জার্মান কোচ নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, গোল করার পরপরই প্রতিপক্ষ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই অনেক বেশি ক্রস ও সুযোগ তৈরি করছিল। মাঝের ফাঁকগুলো বড় হয়ে যাওয়ায় তিনি পাঁচজনের রক্ষণভাগে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। টুখেল আরও যোগ করেন, আগের ম্যাচগুলোতে তিনি আক্রমণাত্মক পরিবর্তনও করেছেন। তিনি স্বীকার করেন যে, দায়ভার সবসময় কোচের ওপরই বর্তায় এবং ফল ভালো না হলে যেকোনো সিদ্ধান্ত ভুল বলে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক।