বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ডালাসের এই লড়াইয়ে ফ্রান্সের তারকাখচিত আক্রমণভাগকে পুরো সময় বোতলবন্দি করে রেখেছিল স্প্যানিশরা। কিলিয়ান এমবাপ্পে, ওসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে কিংবা ব্র্যাডলি বারকোলা—কাউকেই নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে দেয়নি স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণ ও মাঝমাঠ।
ম্যাচটি কেবল গোলের ব্যবধানেই নয়, বরং টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল দিক থেকেও ফ্রান্সের জন্য ছিল এক নির্মম অভিজ্ঞতা। পুরো ৯০ মিনিটে এমবাপ্পে বল স্পর্শ করতে পেরেছেন মাত্র ৩৭ বার এবং গোল করার মতো কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। অপ্টার তথ্য অনুযায়ী, এই ম্যাচে ফ্রান্সের এক্সপেক্টেড গোল (এক্সজি) ছিল মাত্র ০.৩, যা বিশ্বকাপে তাদের সর্বনিম্ন। ম্যাচের ৮২তম মিনিটে দেজিরে দুয়ের দূরপাল্লার শটটিই ছিল ফ্রান্সের প্রথম অন-টার্গেট শট।
স্পেনের এই জয়ের নেপথ্যে ছিল তাদের সম্মিলিত দলীয় শক্তি এবং আধুনিক ফুটবলের কার্যকর অস্ত্র ‘পজিশনাল প্রেস’ ও ‘ফাইভ সেকেন্ড কাউন্টার প্রেস’। বল হারানোর পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে দলবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ার কৌশলে ফরাসিদের ছন্দ নষ্ট করে দেয় স্পেন। এমবাপ্পে যখনই বল পেয়েছেন, তখনই তাকে পিঠ ঘুরিয়ে খেলতে হয়েছে, আর দেম্বেলে ও অলিসেকে পড়তে হয়েছে একাধিক খেলোয়াড়ের মার্কিংয়ের কবলে।
ফ্রান্স কোচ দিদিয়ে দেশম তার দলকে আক্রমণাত্মক ফুটবলের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, কিন্তু স্পেনের কৌশলী ডিফেন্স সেই স্বাধীনতা কেড়ে নেয়। মাঝমাঠে চুয়ামেনি ও রাবিওকে নিয়ে গড়া ফ্রান্সের দুই সদস্যের মিডফিল্ড রদ্রি, ফ্যাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমোর ত্রিভুজ আকৃতির কৌশলের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে। ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে স্বীকার করেছেন যে, তাদের প্রেসিং কাঠামোয় বড় ধরনের ভুল ছিল, যা স্পেনের জন্য বাড়তি জায়গা তৈরি করে দিয়েছিল।
পুরো ম্যাচে স্পেন যেন ফ্রান্সের সঙ্গে চোর-পুলিশ খেলা খেলেছে। আক্রমণভাগের চার তারকা কার্যত বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দার মতো পার করেছেন সময়টা। বল সরবরাহের চেইন বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ফ্রান্স কখনোই গোলরক্ষককে বড় কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। এভাবেই কৌশল ও বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে ফ্রান্সকে বোতলবন্দি করে স্পেন নিশ্চিত করেছে নিজেদের ফাইনালের টিকিট।