August 2, 2026, 10:56 pm

তৃণমূলে নতুন কমিটি গঠন ও অনলাইন তৎপরতায় ফিরতে চাইছে আওয়ামী লীগ

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, August 1, 2026
  • 2 Time View

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা রাজনীতিতে পুনরায় জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এই ফেরার প্রচেষ্টায় দলটি সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল নেতাদের সক্রিয় করা, বিচ্ছিন্নভাবে রাজপথে কর্মসূচি পালন এবং অনলাইনে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর ওপর জোর দিচ্ছে। তবে দলটি এখনো তাদের অতীতের ভুল নিয়ে কোনো আত্মসমালোচনা বা রাজনৈতিক সংস্কারের পথে হাঁটেনি।

ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বর্তমানে অনলাইনে দেশ-বিদেশে থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে তিনি জেলা, উপজেলা ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। দলটির সূত্র অনুযায়ী, অন্তত ১৭টি জেলায় উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন বা দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের কার্যক্রম চলছে। এর বাইরে উত্তরের ২৩টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে, আবার কোথাও সমন্বয়কারী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচয়ে নেতৃত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসবের অধিকাংশই অনলাইনে ঘোষণা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা চলতি মাসেই ডিসেম্বরে দেশে ফেরার এবং বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর এই ঘোষণাকে সামনে রেখেই তৃণমূল গোছানোর তৎপরতা চলছে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ গত ডিসেম্বরে শেষ হলেও নতুন নেতৃত্ব বা সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। বরং কেন্দ্রীয় কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে তৃণমূল পুনর্গঠনকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের অধীন মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর, আদাবর ও কাফরুল থানার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা এবং ১৭ জুলাই অনলাইনে সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ও ১২ জুলাই পাবনা জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির বিষয়টি এই কৌশলের অংশ।

নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বর্তমানে চারটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে: কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়া নেতাকর্মী, স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা থাকা ব্যক্তি, প্রভাবশালী নেতা এবং কারাগারে বা বিদেশে থাকা নেতাদের অর্থের জোগান দেওয়ার সক্ষমতা। এছাড়া ঝটিকা মিছিল করার সক্ষমতা ও অনলাইন প্রচারণায় সক্রিয় থাকাকে মূল্যায়নের মানদণ্ড করা হয়েছে।

যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসায় তৃণমূলের অনেক নেতা এখন সরাসরি টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, যা দলের প্রথাগত সাংগঠনিক স্তরকে দুর্বল করে তুলেছে। জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও মির্জা আজমসহ কয়েকজন নেতার প্রভাব এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বেশি দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে তিন শতাধিক সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা কারাগারে রয়েছেন এবং অনেকে আত্মগোপনে আছেন। এই পরিস্থিতিতে শুধু তৃণমূল কমিটি ও অনলাইন প্রচারণার ওপর ভর করে দলটি কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category