August 1, 2026, 12:11 am

দেশে নির্লজ্জ দলীয়করণ চলছে, অভিযোগ জামায়াত আমিরের

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, July 30, 2026
  • 5 Time View

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা জলাঞ্জলি দিয়ে দেশে এখন ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ’ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা মহানগর জামায়াত আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য থাকলেও বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা ও প্রশাসনে যোগ্যদের সরিয়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, প্রশাসন, ব্যাংক-বীমা ও করপোরেশনসহ সব জায়গায় এখন নির্লজ্জ দলীয়করণ চলছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এটি কি নতুন ধরনের কোটা নয়? যোগ্য ও সৎ মানুষদের সরিয়ে অসৎ ও দুর্নীতিবাজদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হচ্ছে যাতে একটি দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য কায়েম করা যায়। যারা জীবন দিয়েছেন, তারা কি শুধু একটি দলকে সরিয়ে আরেকটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য আত্মত্যাগ করেছিলেন? তারা চেয়েছিলেন রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন, কিন্তু বর্তমানে মনে হচ্ছে দেশ আবার সেই পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

২০২৪ সালের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, যখন অনেক রাজনৈতিক দল এটিকে কেবল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বলে দূরত্ব বজায় রেখেছিল, তখন জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলনরত তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল। আন্দোলন সফল হওয়ার পর দলটি কখনও এর কৃতিত্ব দাবি করেনি। তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড বা এত শহীদ হয়েছে বলে কোনো কৃতিত্ব দাবি করিনি, এমনকি নির্বাচনও দাবি করিনি। বরং শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।

৬ আগস্টের পর থেকে দেশে চাঁদাবাজি শুরু হলেও তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। শহীদ পরিবারের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক পরিবার আর্থিক সহায়তার চেয়ে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এক শহীদের বাবা আর্থিক সহায়তা ফিরিয়ে দিয়ে তা অন্য অসচ্ছল শহীদ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, যা রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের জন্য শিক্ষা হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, শহীদদের অধিকাংশই প্রান্তিক ও শ্রমজীবী মানুষ ছিলেন, যাদের সরকারি চাকরির কোটা পাওয়ার স্বার্থ ছিল না, তারা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ দেখতেই রাস্তায় নেমেছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেন যে, তারা বিচার চান, প্রতিশোধ নয়। তিনি বলেন, শহীদদের হত্যার বিচার বাংলার মাটিতে একদিন না একদিন অবশ্যই হবে। এছাড়া গণভোট ও জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি থেকে জামায়াতে ইসলামী সরে আসবে না। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রক্ষা করেননি, বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন। এখনও সময় আছে, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সঠিক পথে ফিরে আসুন। তিনি আরও বলেন, নানা ভয়ভীতি বা লোভের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তারা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না এবং জুলাইয়ের চেতনা অন্তরে ধারণ করে শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category