র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা ‘আয়নাঘর’-এর অভ্যন্তরে প্রমাণ গোপন করতে যারা দেয়াল তুলেছিল, তাদেরও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত এই গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত সংস্থা যখন কাজ শুরু করে, তখন বন্দিশালার প্রকৃত অবস্থা আড়াল করতে একটি ক্যামোফ্লেক্স তৈরি করা হয়েছিল। ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে বন্দিশালার অবস্থার মিল না পাওয়ায় তদন্ত সংস্থা অনুসন্ধান শুরু করে। এক পর্যায়ে দেয়াল সরিয়ে সেখানে মোট ২২টি রুম এবং তার নিচে একটি ভয়াবহ ডেথ সেলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে সেখানে ২৯টি রুমের সন্ধান মিলেছে। তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট অনেকেরই দায় রয়েছে এবং তাদের এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। যারা পরবর্তীতে দেয়াল টেনে আয়নাঘর ঢাকার চেষ্টা করেছে, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে।
আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ব্যারিস্টার আরমান এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও র্যাবের এই সেলে বন্দি রাখা হয়েছিল। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভারতে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিচার প্রক্রিয়া চলছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আয়নাঘর পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে চিফ প্রসিকিউটরসহ প্রসিকিউশন টিমের সদস্য এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালে র্যাব, ডিজিএফআই ও ডিবির গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের আবেদন করেন। ওই সময় তিনি আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিরোধী মতাদর্শের ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে নির্যাতন ও গুমের বর্ণনা তুলে ধরেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এই পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়।