মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মনিরুল হক। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার পর তিনি কাঠগড়ায় বসে সাক্ষ্য প্রদান করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মীজানুল ইসলাম, শাইখ মাহদী ও আব্দুস সাত্তার পালোয়ান উপস্থিত ছিলেন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাইদুর রহমান ও নাজনীন আহসান।
সাক্ষ্য প্রদানের সময় মনিরুল হক বর্ণনা করেন যে, জিয়াউল আহসানের সরাসরি নির্দেশে বরিশালের পাথরঘাটায় একটি অভিযানে বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) সদস্য নজরুলসহ কয়েকজনকে হত্যা করা হয়। তিনি জানান, হত্যার পর লাশগুলো বস্তায় বেঁধে পেট কেটে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। অপরদিকে আসামি জিয়াউল আহসান এজলাস কক্ষের কাঁচের দেয়ালে ঘেরা কাঠগড়ায় চেয়ারে বসে নিজের বিরুদ্ধে আনা এই জবানবন্দি শোনেন ও নোট করেন।
অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা কর্মকর্তা নিজের কর্মজীবনের বর্ণনা দিয়ে জানান, তার বর্তমান বয়স ৬২ বৎসর। তিনি ১৯৯০ সালের ২২শে জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সে লেফটেন্যান্ট পদে কমিশন্ড প্রাপ্ত হয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি র্যাব-৮ বরিশালের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জানান, র্যাব-৮ এর আওতায় ১১টি জেলা ছিল, যার প্রায় সবগুলো নদী বিধৌত এবং উপকূলীয়। র্যাবের সিও’স কনফারেন্সে তৎকালীন মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকতেন। মনিরুল হক জানান, সেই কনফারেন্সগুলোতে তৎকালীন ডাইরেক্টর (ইন্টেলিজেন্স) লে. কর্নেল জিয়াউল আহসানসহ অন্যান্য পরিচালকরা সরাসরি দিক-নির্দেশনা দিতেন।
সাক্ষ্যে মনিরুল হক আরও বলেন, র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে ‘ওয়াজিবাতুল কতল’ শব্দটি ব্যবহার করতেন। তিনি উল্লেখ করেন, সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যু দমনের ক্ষেত্রে র্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইং সরাসরি অভিযানে অংশ নিত। লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান তার উইংয়ের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন সময় বরিশাল অঞ্চলে এসে অপারেশন পরিচালনা করতেন। বিশেষ করে গোপনীয়তা রক্ষার অজুহাতে ব্যাটালিয়নের বাইরে থেকে এসে এসব অভিযান চালানো হতো বলে তিনি জানান।