প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত অংশগ্রহণে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের লক্ষ্যে সেদিন শিক্ষার্থী, মাদ্রাসা ছাত্র, দিনমজুর, হকার, রিকশাচালক, গার্মেন্টস শ্রমিক, কৃষক এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাসহ সর্বস্তরের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমেছিল। বিশেষ করে নারীদের ও মায়েদের সাহসী ভূমিকা এই আন্দোলনকে বেগবান করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মাহদী আমিন শহিদ আবু সাঈদ ও শহিদ ওয়াসিম আকরামসহ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আত্মদানকারী সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, যেখানে সামাজিক ন্যায্যতা ও সমতা নিশ্চিত হবে। উপদেষ্টা আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে দলটি সবচেয়ে বেশি গুম, খুন ও মামলার শিকার হয়েছে; যেহেতু বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল, তাই তাদের ৬০ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির ৪০০-এর বেশি নেতাকর্মী এবং ছাত্রদলের ১৪০ জনের বেশি কর্মী শহিদ হয়েছেন বলেও তিনি জানান।
তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সূচনালগ্ন থেকেই তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ও তাদের ঢাল হিসেবে কাজ করার স্পষ্ট নির্দেশনা দেন। মাহদী আমিন প্রবাসীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সময় প্রবাসীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বৈরাচারের নির্মমতার চিত্র তুলে ধরেছেন এবং রেমিট্যান্স শাটডাউনের ডাক দিয়ে ফ্যাসিবাদের অর্থনৈতিক ভিত নাড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রোপাগান্ডা ও গুজব রুখে দিয়ে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা বৃহত্তর ঐক্যের সংস্কৃতি বজায় রাখতে চাই। মত ও আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবে। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলামসহ সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।