July 16, 2026, 9:59 pm

সব সরকারি সুবিধা এক কার্ডে: আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, July 16, 2026
  • 3 Time View

দেশের সাধারণ মানুষ, প্রান্তিক কৃষক এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের সব ধরনের সামাজিক ও আর্থিক সুবিধা একক ব্যবস্থায় আনতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের বাজেট সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন শ্রেণির জন্য চালু থাকা পৃথক কার্ডের সুবিধা একটি কার্ডের আওতায় আনা হবে। নাগরিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতে দেওয়া সরকারি সুবিধাগুলো একত্রিত করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে, যাতে একক পরিচয়ের মাধ্যমে সব সরকারি সেবা ও সুবিধা পাওয়া যায়।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সেবাপ্রাপ্তি সহজ করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। কৃষকদের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যার ফলে দেশের প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নের প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভেদ থাকার সুযোগ নেই।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে, যা ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরি করবে এবং প্রায় আড়াই লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন বছর আগে দেশের প্রতিটি পর্যায়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে যে ৩১ দফা রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা আজ ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও জানান, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগসহ প্রতিটি সিদ্ধান্ত ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বৈষম্যহীন, উগ্রবাদমুক্ত এবং একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category