নাটোরের সিংড়া উপজেলার রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের বালাল গ্রাম থেকে গোয়ালবাড়িয়া গ্রাম পর্যন্ত দুই কিলোমিটার দীর্ঘ গ্রামীণ সড়কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। গত শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়, যেখানে স্বেচ্ছাসেবীরা ১০০০ গাছের চারা রোপণ করেন।
এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করেছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বুনোদল’ (শেরকোল), ‘অনিরুদ্ধ আশরাফ ফাউন্ডেশন’ এবং ‘হাতিয়ানদহ ইউনিয়ন গণগ্রন্থাগার’। দুপুর একটার দিকে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তিনি উপজেলার প্রতিটি সড়ক ও খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণে সুশীল সমাজ ও তরুণদের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং রোপণকৃত চারাগুলোর সঠিকভাবে পরিচর্যা ও সুরক্ষায় স্থানীয়দের উদ্বুদ্ধ করেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তাশরিফুল ইসলাম অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বলেন, গাছপালার সুস্থ বৃদ্ধি ও পরিবেশগত সুরক্ষার সাথে প্রাণিসম্পদ ও প্রকৃতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই উদ্যোগ গ্রামীণ পরিবেশ সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বুনোদল-এর নেতারা এবং অনিরুদ্ধ আশরাফ ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আলতাফ হোসেন জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন এবং গ্রামীণ সড়কের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা বজায় রাখবেন। হাতিয়ানদহ ইউনিয়ন গণগ্রন্থাগারের সভাপতি মো. আব্দুল মতিন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বাকি বিল্লাহ রশিদি বলেন, তরুণ সমাজ ও স্থানীয়দের একত্র করে পরিবেশবান্ধব কাজের এ প্রচেষ্টা নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করবে এবং তাদের এই অংশীদারিত্ব অব্যাহত থাকবে।
এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মামুন হোসেন ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তারা জানান, সোয়াইড় ও বালাল গ্রামের স্থানীয় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এই চারাগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। অনুষ্ঠানে ডেইলি বাংলাদেশ প্রতিনিধি মেহেদী হাসান বাবু, সাংবাদিক খন্দকার মাহাবুব রহমান, বুনোদলের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।